উপশহরে কেন ফ্ল্যাট কিনবেন?

উপশহরে কেন ফ্ল্যাট কিনবেন?

হাঁটতে হাঁটতে যদি পথ হারিয়ে ফেলেন তবে নিজেকে অবশ্যই দোষ দিবেন না । নিরিবিলি, কোলাহল মুক্ত, শান্ত, অগনিত রাস্তা নিয়ে গড়ে ওঠা রাজশাহী উপশহর হাউজিং এস্টেট এর কথা বলছি। সকালে হাঁটতে গিয়ে ঝিরিঝিরি বাতাস, অগনিত গাছগাছালী. নাম না জানা পাখির কলতান আর এক অদ্ভুত নীরবতা আপনাকে মুগ্ধ করে ছাড়বে ।

এরিয়া পরিচিতি তিনটি সেক্টরে বিভক্ত উপশহরে প্রতিটি সেক্টরে কমবেশি ৬০০ টি করে প্লট আছে । যেখানে প্রতিটি প্লটের প্রস্থ ২৫ ফুট ও দৈর্ঘ্য ৫০ ফুট। জমির পরিমাণ পৌনে ২ কাঠার মতো, তাছাড়া কিছু প্লট আছে যেগুলি আকারে অনেক বড় এবং প্লটগুলি উওর দক্ষিণ মুখি ।প্রতিটি প্লটের সামনে দিয়ে আছে প্রশস্ত রাস্তা । যারা নিরিবিলি পরিবেশে বসবাস বা সন্তান প্রতিপালন করতে চান তাদের জন্য উপশহর অবশ্যই আদর্শ একটি আবাসিক জায়গা।আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে , রাজশাহী হাউজিং.কম কেন রাজশাহী উপশহরকে বসবাসের জন্য একটি আদর্শ জায়গা বলছে? বা আপনিই বা কিভাবে বুঝবেন, কোন এলাকা বসবাসের জন্য আদর্শ? কেবল মনের মত প্লট বা ফ্ল্যাট পেলেই যে বেছে নিতে হবে এমনটা নাও হতে পারে। কেবল সাধ্যের মধ্যে অ্যাপার্টমেন্ট পেলেই অনেকে কিনে ফেলেন বা ভাড়া নিয়ে নেন, কিন্তু কিছু দিন পর থেকে অনুভব করেন যে এই এলাকায় অন্যান্য সুযোগ সুবিধা তেমন নেই! অনেকে তো এলাকার সাথে মানিয়ে নিতেও পারে না। তখন হয়তো না মানিয়ে নেওয়া এলাকাতেই থেকে যেতে হয়। কোন এলাকায় বসবাসের সিদ্ধান্ত কোন সহজ বিষয় নয়। এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যে এলাকায় যেতে চাচ্ছেন সে এলাকাকে নিবিড়ভাবে যাচাই বাছাই করতে হবে । কিন্তু কীভাবে করবেন সেটা ভাবছেন? ভাবনা নেই , আমরা আছি Rajshahi Housing.com । আজকে আলোচনা করবো, যে কয়েকটি বিষয় থাকলে বুঝবেন আপনার এলাকা বসবাসের জন্য সেরা । এবং এ কারণেই আমরা রাজশাহী উপশহরকে বসবাসের জন্য আদর্শ জায়গা বলেছি । কমিউনিটি বা লাইফস্টাইল অপরাধের পরিমাণ মানসম্মত স্কুল ও কলেজ আউটডোর অ্যাক্টিভিটি স্বাস্থ্যসেবা যোগাযোগ ব্যবস্থা কেনাকাটার সুবিধা পয়েন্টগুলি নিয়ে লিখতে হবে এবং এই পয়েন্ট গুলির ভিত্তিতে উপশহর কেন বসবাসের জন্য আদর্শ তা বর্ননা করতে হবে।

রাস্তা এবং ড্রেনেজ সিস্টেম উপশহরের প্রায় সকল দিকে সুপ্রশস্ত এবং সুপরিকল্পিত রাস্তা দৃশ্যমান এছাড়া উপশহরের ভিতরে অসংখ্য রাস্তা দেখা য়ায় । প্রতিটি রাস্তা একে অপরের সাথে সংযুক্ত । রাস্তার সাথে ড্রেনেজ ব্যাবস্থা সম ভাবে গুরুত্বপূর্ন এই খানে বড় রকমের ড্রেন দেখা য়ায় অতি বৃষ্টিতে খুব কম সময়ের মধ্যে পানি নিস্কাসনের সুব্যাবস্থা রয়েছে। যদি কখন ও বড় ড্রেন গুলা ময়লার কারনে বন্ধ হয়ে যায় তখন কিছুটা জলাবদ্ধতা লক্ষ করা য়ায় তাও আবার কিছুটা সময়ের জন্য।

সামাজিক নিরাপওা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ লাইফস্টাইল এবং কমিউনিটি অনেকেই এই বিষয়টি শুরুর দিকে এড়িয়ে যায়। তবে যখন এলাকায় বসবাস শুরু করে তখন এই বিষয়টির সাথে দেখা দেয় অমিল। দেখা যায় আপনার আশেপাশের এলাকাগুলো হয়তো আপনার চাহিদামত হয়নি বা আপনি যেমনটা পছন্দ করেন তেমনটি পাননি। বেশি লোকালয়, বাসার ঠিক কাছেই দোকানপাঠ, বাসার নিচেই হয়তো বসে যায় বাজার কিংবা বাসার পাশেই এলাকার মানুষের রাতজাগা আড্ডা এই সমস্ত বিষয়গুলো বসবাসের জন্য বেশ বিরক্তিকর। রাজশাহী উপশহর এমন একটা হাউজিং এলাকা যেখানে উপ্রের সবগুলি ঝামেলা থেকে আপনি মুক্ত থাকবেন ।যারা নিরিবিলি থাকতে ভালোবাসে তাদের জন্য উপশহর একটা আদর্শ জায়গা । লাইফ স্টাইলের পাশাপাশি আর একটি বিষয় বেশ গুরুত্বপূর্ণ সেটা হচ্ছে কমিউনিটি অর্থাৎ সামাজিকতা কেমন। রাজশাহী শহরের অনেক জায়গায় , অনেক বলা ঠিক হলো না বলা উচিত অধিকাংশ জায়গায় আপনি দেখবেন রাস্তার দুইপাশে সুউচ্চ বিল্ডিং কিন্তু এর পেছনেই রয়েছে নিম্ন আয়, নিম্ন শিক্ষার মানুষের ঘন বসতি। পরিষ্কার করে বলতে গেলে অনেকটা বস্তির মত। সারাদিন অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ এবং এর পাশাপাশি জন্মদিন, মুসলমানি , মেয়ের কান ফোরানো , বিয়ে বা গায়ে হলুদ এর মতো অনুষ্ঠানগুলিতে উচ্চ ভলিউমে গান আপনার রাতের ঘুম আর দিনের শান্তি নতসাত করে দিবে ।উপশহর এদিক থেকে বলতে গেলে একেবারেই আলাদা। এখানে আপনি এই ধরনের কোন আয়োজন প্রায় দেখতেই পাবেন না। অপেক্ষাকৃত বিত্ত্বশালী মানুষ এখানে বসবাস করায় এধরনের অনুষ্ঠানগুলি সাধারণত কমিউনিটি সেন্টারে হয়ে থাকে এর পাশাপাশি শিক্ষিত প্রতিবেশী শান্তিতে বসবাস করার ক্ষেত্রে আপনাকে অনেকটাই এগিয়ে রাখবে। আপনি কাউকে বিরক্ত না করলে কেউ আপনাকে বিরক্ত করতে আসবে না । অপরাধের পরিমাণ পরিবার ও নিজের নিরাপত্তা সবার কাছেই প্রধান বিষয়। যেকোন নতুন এলাকায় বসবাসের সিধান্ত নেয়ার আগে আপনাকে অবশ্যই নিরাপত্তার বিয়য়ে খোঁজ নিতে হবে। বিশেষ করে এলাকায় চুরি ডাকাতি বা অন্যান্য অপরাধ কি রকম হয় বা এগুলো রোধ করার জন্য এলাকায় কেমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন সে সম্বন্ধেও জানতে হবে। যে এলাকায় চুরি ডাকাতি হবে তাহলে সে এলাকায় নিজের বা পরিবারের জান মালের কোন নিরাপত্তা নেই এতে কোন সন্দেহ নেই। এমনিতেই রাজশাহী শহর কম অপরাধ প্রবণ । তারপরেও কোন এলাকা অপরাধ প্রবণ হবার ক্ষেত্রে সেই এলাকার অভ্যন্তরীন জনগোষ্ঠীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগসাজশ থাকে । যেহেতু শিক্ষিত, অপেক্ষাকৃত ধনী পরিবার বসবাস করে, যাদের বেশিরভাগই সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ বসবাস করেন তাই অভ্যান্তরিন জনগোষ্ঠীর সহায়তায় বাইরের অপরাধীদের অনুপ্রবেশ এখানে নাই। তাই অপরাধের প্রবণতাও এখানে কম । মনে রাখবেন পৃথিবীতে এমন কোন জায়গা নাই যেখানে আপনাকে পরিপূর্ণ এবং নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিবে । ব্যাক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়গুলির দিকে খেয়াল রাখলে নিসন্দেহে বলা যায় রাজশাহী শহরের অন্য যেকোন জায়গার তুলনায় উপশহর অনেক নিরাপদ। উপশহরের ঠিক মাঝখানে পুলিশ ফাড়ি আপনাকে বাড়তি নিরাপত্তা দিবে ।

বাজার ও কেনাকাটার সুবিধা একইসাথে নিত্যদিনের প্রয়োজন এবং জীবনধারনের জন্যে উপশহর নিউমার্কেট নামে উক্ত এলাকায় বসবাসকারীদের আলাদা একটি কাচাবাজার অর্থাৎ খাদ্যপন্যের বাজার আছে। তাছাড়া আধুনিক সময়ে অত্যাধুনিক রেস্টুরেন্ট, কমিউনিটি সেন্টার, সুপারসসহ নাগরিক জীবনের যাবতীয় সুবিধা নিয়ে উপশহর এখন রাজশাহী শহরের ভেতর আরেকটি সাজানো শহর। এছাড়া সরকারী প্রশাসনিক সকল অফিস আদালত উপশহর থেকে খুবই সামান্য দুরুত্বে। উপশহর নিয়ে কথা বলতে গেলে অবশ্যই উপশহরের আশেপাশে থাকা এলাকাসমুহ এবং এই এলাকাসমুহের পরিবেশ নিয়ে সামান্য হলেও আপনার ধারনা থাকা উচিত। আপনি যদি বাস বা ট্রেনে করে রাজশাহীতে প্রবেশ করেন তাহলে আপনাকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নগরভবনের মোট দিয়ে উপশহরে প্রবেশ করতে হবে যা দড়িখড়বোনা মহল্লার মধ্যে উক্ত মহল্লা উপশহরের দক্ষিনে অবস্থিত যেখানে অধিকাংশই স্থানীয় বাসিন্দাদের বাস আর রাজশাহীর স্থানীয় বাসিন্দাদের যে সুনাম তা উক্ত মহল্লার বাসিন্দাদের অনেক আগে থেকেই আছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিপরীতে যদি সন্তানদের পড়াশোনা নিয়ে কথা ওঠে তাইলে উক্ত এলাকায় সরকারী প্রাইমারী স্কুল থেকে প্রাইভেট কিন্ডারগার্টেন, আন্তর্জাতিক মানের মাদ্রাসা, মানসম্পন্ন হাই স্কুল, উচ্চশিক্ষার জন্যে সরকারী কলেজ আর উপশহর থেকে সামান্য ব্যবধানেই আছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ এবং প্রস্তাবিত রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় সাথে রাজশাহী কলেজসহ শিক্ষানগরীর যাবতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অর্থাৎ আপনি চাইলেই আপনার সন্তানদের পড়শোনা শুরু থেকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজের বাড়িতে থেকেই করাতে পারবেন।

পার্ক-মাঠ ও বিনোদন উপশহরে একাধিক খেলার মাঠ দেখা যায় প্রতিদিন বিকালে বাচ্চারা এই মাঠে খেলাধুলায় মত্ত থাকে আর বড়রা বিকেলের ব্যায়ম এবং হাটাহাটি নিয়ে ব্যাস্ত থাকে । সকালে বিকেলের হাটাহাটির জন্য উপশহর সেরা ।এখান কার কর্মজীবী মানুষেরা সকালে অথবা বিকেলে উপশহর এলাকার ভেতরে হাটাহাটি করে এবং একে অপররের সাথে কুশল বনিময় করে থাকে।উপশহর এলাকায় বিভিন্ন ফুড কার্ট এর দেখা্ মেলে বিকেলে বিভিন্ন বয়সের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ এই সকল ফুড কার্ডে ভিড় জমায় । বর্তমানে ফাস্ট ফুড কর্নার ও ফুড কার্ট বিনোদোন এক বিশেষ মাধ্যম এই এলাকার বসবাসরত মানুষের জন্য।

জরুরী সেবা বোয়ালিয়া মডেল থানা উপশহর এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সক্রিয়।উপশহর এলাকায় নিয়মিত পুলিশ টহল ও কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম চালু আছে।উপশহর এলাকা থেকে রাজশাহী ফায়ার স্টেশনের দূরত্ব খুবই কম সময়ের যে কোন সমস্যায় অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যাবস্থা গ্রহন সম্ভব । এছাড়া রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালও , উপশহর এর অত্যান্ত কাছে অবস্থিত হওয়ায় এখানে আধুনিক শহর জীবনের সকল রকমের সুযোগ সুবিধা বিদ্যমান।উপশহরে শহর জীবনের সকল রকম সুবিধা পরিপূর্ন রূপে থাকার কারনে উপশহর এলাকায় ফ্লাট কেনার বিষয়ে অনেকের আগ্রহ লক্ষ্যনিয় ।

যোগাযোগ ব্যাবস্থা রাজশাহী উপশহর থেকে রাজশাহী শহরের যে কোন স্থানে যাতায়াত অত্যান্ত সহজ। এখান থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ১০ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত। বাস ও রেল স্টেশন ৮-১০ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত, রাজশাহী এয়ারপোর্ট ১২ থেকে ১৫ মিনিটের দূরত্বে। উপশহর থেকে রাজশাহী শহরের যেকোন স্থানের দূরত্ব অনেকটাই কম ।

বিনিয়োগের সুযোগ উপশহরে ফ্লাট কেনার মাধ্যমে নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য একটি স্থিতিশীল সম্পদ তৈরি করা সম্ভব।উপশহর এলাকা রাজশাহী শহরের কেন্দ্রে হওয়ায় এই এলাকায় বাসা বেশী, ভাড়ার মাধ্যমে নিয়মিত আয় নিশ্চিত করা সম্ভব এবং ভবিষ্যতে ফ্লাট এর মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে লাভবান হওয়া সম্ভব।

সংক্ষেপে বললে-
• এলাকাটি শহরের প্রানকেন্দ্রে অবস্থিত ।
•এলাকার বাইরে প্রশস্ত রাস্তা বিদ্যমান এবং এলাকার ভেতরে যথেষ্ট প্রশস্ত রাস্তা রয়েছে যা সার্বক্ষনিক যাতায়াতের জন্য যথেষ্ট ।
• একেবারেই হাতের নাগালে জরুরী সেবা(হাসপাতাল/ফায়ার/পুলিশ) ।
• এলাকা ভেতর প্রায় সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‌রয়েছে ।
• এলাকার ভেতরে একাধিক খেলার মাঠ রয়েছে ।
• উপশহর নিউমার্কেট কাচাবাজার ও বিভিন্ন সুপার শপ রয়েছে ।
• এলাকায় সিসিটিভি থাকায় নিরাপওা ব্যাবস্থা যথেষ্ঠ সুন্দর। উপশহরের চতুর্দিকেই যে এলাকা বা মহল্লাগুলি আছে তার সবই সুনাগরিক সমৃদ্ধ যার কারনে এখানে শান্তিতে বসবাস করতে চাওয়ার ইচ্ছাটা আপনার জীবনের সেরা সিদ্ধান্তগুলির একটি।

Real Estate News