সবুজ নগরী রাজশাহীর অন্যতম ব্যস্ততম এলাকা লক্ষীপুর। লক্ষীপুর ব্যস্ততম হবার অন্যতম কারন হলো রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। এবং এই হাসপাতালকে কেন্দ্র করে আশে পাশে গড়ে অসংখ্য হাসপাতাল/ক্লিনিক/ডায়াগনষ্টিক সেন্টারসহ অসংখ্য চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান। এই লক্ষীপুর এর পশ্চিম-দক্ষিন এলাকা জুড়েই গড়ে উঠেছে “কাজীহাটা”।কাজীহাটা যেন ব্যস্ত নগরীতে শান্ত এক দ্বীপ
এরিয়া পরিচিতি
কাজীহাটা রাজশাহী শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি পরিচ্ছন্ন ও সুসংগঠিত আবাসিক এলাকা।।ভৌগোলিক দিক দিয়ে লক্ষীপুর দক্ষিন-পশ্চিমে কাজীহাটার অবস্থান এবং খ্রিস্টান মিশন হাসপাতাল এর উত্তর দিকে এবং এর পূর্বদিকে রয়েছে নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজ ও সিএন্ডবি মোড় ও পশ্চিমে জেলা নির্বাচন অফিস, চন্ডিপুর এলাকা ও রাজপাড়া থানা। এ এলাকায় রাজশাহীর সর্ববৃহত আবাসিক হোটেল অবস্থিত হোটেল গ্রান্ড রিভার ভিউ হওয়ার কারনে বিদেশী পর্যটক এর অবাধ বিচরন এই এলাকায় । এই এলাকার সামাজিক নিরাপত্তার উপর প্রশাসনের এক বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
রাস্তা এবং ড্রেনেজ সিস্টেম
কাজীহাটার চারদিক দিয়ে সুন্দর রাস্তা বিদ্যমান । এর দক্ষিন ও পূর্ব পার্শে সুপ্রশস্থ চারলেন রাস্তা রয়েছে এবং উত্তর ও পশ্চিম দিকে দুই লেন এর চওড়া রাস্তা রয়েছে ও রাস্তা সংলগ্ন প্রশস্থ ড্রেনেজ ব্যাবস্থা দৃশ্যমান। এলাকার অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলো পাকা এবং পরিকল্পিত, যার ফলে যান চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটে না। লক্ষীপুর মোড় থেকে সিএন্ডবি মোড়, সিএন্ডবি মোড় থেকে মিশন হাসপাতাল মোড়, মিশন হাসপাতাল মোড় থেকে ঝাউতলা মোড় এবং ঝাউতলা মোড় থেকে লক্ষীপুর মোড়। এই চারদিকের রাস্তা ঘিরেই মূলত কাজীহাটার মূল এলাকা দৃশ্যমান। কাজীহাটার ভেতরে আরও অনেক ছোট বড় বেশ কিছু রাস্তা রয়েছে যা এই এলাকে বিভিন্ন দিক দিয়ে সংযুক্ত করেছে। এই এলাকার চার পাশে বড় রকমের ড্রেন থাকলেও এলাকার ভেতরের ড্রেন গুলা তুলনা মূলক সংকীর্ণ যা অতি বৃষ্টিতে কিছুটা ভোগান্তির কারন হয়ে দাড়ায় ।
সামাজিক নিরাপওা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ
কাজীহাটার ঠিক পশ্চিম পাশে মেইন রাস্তা সংলগ্ন রাজপাড়া থানার অবস্থান যা কাজীহাটার একান্ত নিকটে অবস্থিত। এছাড়া এই এলাকায় অধিকা্ংশ ডাক্তার ও পেশাজীবী বসবাস এর কারনে সামাজিক নিরাপত্তার বিষয় এ অধিক গুরুত্বের সাথে দেখা হয় । এই এলাকায় সার্বক্ষনিক পুলিশি টহল লক্ষ করা য়ায় এখানে এলাকার নিরাপওার কথা বিবেচনা করে অনেকেই এই এলাকায় ফ্লাট কেনাতে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করে থাকেন। কাজীহাটা এলাকায় চিকিৎসার কারনে এবং পড়াশোনার কারনে বাইরে থেকে অনেক মানুষের আনাগোনা হ্ওয়ার এই এলাকায় সবসময় সামাজিক নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজমান। সিসিটিভি ক্যামেরা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতনতা মিলে গড়ে উঠেছে একটি নিরাপদ আবাসন পরিবেশ। এ সকল কারনে এই এলাকার ফ্লাট এর চাহিদা সব সময় বেশ বেশী দেখা য়ায়।
বাজার ও কেনাকাটার সুবিধা
কাজীহাটা একদম লক্ষীপুর সংলগ্ন হওয়ায় এইখানে অনেকটা সার্বক্ষনিক বাজার খোলা থাকে বলাই বাহুল্য। কাজীহাটার ঠিক উওর পার্শে লক্ষীপুর কাচাবাজার যেখানে সকল রকম টাটকা শাক সবজির এক বিশাল সমারোহ এছাড়া ও রাজশাহী সাহেব বাজার ঠিক ১০মিনিটের দূরত্বে হওয়ায় প্রয়োজনীয় যে কোন কিছু অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে পাওয়া সম্ভব ।এছাড়া কাজীহাটায় আধুনিক দোকান পাট দেখা যায় যা দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর ক্ষেএে যথার্থ । কাজীহাটা সংলগ্ন বেশ কিছু সুপার শপ এর দেখা মেলে এছাড়া ব্রান্ডশপ ও রয়েছে এ এলাকায়। রাজশাহী নিউ মার্কেট ও থিম ওমর প্লাজা ১০ মিনিটের দূরত্বে হওয়ার কারনে যেকোন প্রয়োজনে অতি দ্রুত যাওয়া সম্ভব। কাজীহাটাতে আধুনিক বাজার ব্যাবস্থার সকল সুবিধা বিদ্যমান সেটা বলাই বাহুল্য।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
কাজীহাটার ভেতরে বেশ কিছু স্কুল কলেজ বিদ্যমান এ এলাকায় মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেখা যায়। এলাকার আশপাশে রয়েছে রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজ, মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ সহ বেশ কিছু নাম করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তাই শিক্ষার্থীদের জন্য এটি অত্যন্ত সুবিধাজনক এলাকা ।রাজশাহী মেডিকেল কলেজ কাজীহাটার যথেষ্ট কাছে হওয়ায় শিক্ষার্থীদের এই এলাকার প্রতি এক অন্যরকম আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়।বাচ্চাদের সুশিক্ষিত করার জন্য অনেক অভিভাবক স্বপরিবার এ কাজীহাটায় বসবাস শুরু করেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর কারনে ও কাজীহাটায় ফ্লাট এর চাহিদা দিনে দিনে বড়েই চলেছে।
পার্ক-মাঠ ও বিনোদোন
বাচ্চা থেকে বয়স্ক—সবার বিনোদনের জন্য কাছাকাছি আছে শহীদ কামারুজ্জামান পার্ক, টেনিস কমপ্লেক্স, খেলার মাঠ এবং ক্লাব। প্রতিদিনের হাঁটাহাঁটি, খেলাধুলা বা পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য পদ্মা নদীর পাড় এক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে যা কাজীহাটা সংলগ্ন । বর্তমানে বিনোদন এর আর এক মাধ্যম ফুড কার্ট কাজীহাটার বিভিন্ন জায়গার সুস্বাদু ফাস্ট ফুড এর বিভিন্ন দোকানের দেখা মেলে । সন্ধ্যার পরে ফাকা সময় কাটানোর জন্য বিভিন্ন ফুড কার্টে ভিড় লক্ষ্যনীয় । অবসর সময়ে বন্ধু বান্ধব নিয়ে ফুড কর্নারে খাওয়া দাওয়া ও গল্পের মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করা বিনোদন এর আর এক মাধ্যম।
জরুরী সেবা
কাজীহাটা এলাকাটি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের খুব কাছেই এছাড়া ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশ স্টেশনও রয়েছে নিকটে। যেকোনো জরুরী পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া পাওয়া যায়। রাজপাড়া থানা কাছে হওয়ায় এ এলাকায় সার্বক্ষনিক পুলিশি টহল লক্ষ করা যায়। এই এলাকায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ছাড়া ও আরও বেশ কিছু চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান লক্ষ করা যায়।এছাড়া অধিকাংশ ডাক্তারদের বসবাস এই এলাকায় হওয়ায় জরুরী সেবায় তাদের সহায়তা পাওয়া সহজ হয়ে থাকে।
ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন
১০ বছর মেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান চলমান রয়েছে রয়েছে কাজীহাটায়। এর আওতায় নতুন আবাসিক ও পথ, ইলেকট্রিক ও পানি সাপ্লাই উন্নয়ন এবং সব যোগাযোগ লাইন মাটিতে সন্নিবেশ করার পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত
যোগাযোগ ব্যাবস্থা
কাজীহাটা একটি মধ্যবর্তী ও কেন্দ্রীয় এলাকা হিসেবে গড়ে উঠছে। এটি রাজশাহী কলেজ, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, রেলওয়ে স্টেশন ও ব্যবসায়িক কেন্দ্রগুলির নিকটে অবস্থিত কাজীহাটা থেকে রাজশাহী রেল স্টেশন, ১০ থেকে ১২ মিনিট এর দূরত্ব। বাস টার্মিনাল এর দূরত্ব১০ থেকে ১২ ও রাজশাহী বিমানবন্দর থেকে কাজীহাটা ১৫ থেকে ২০ মিনিটের দূরত্ব। শহরের যেকোনো প্রান্তে যাতায়াত করা যায় খুব অল্প সময়ে, যা কর্মজীবী মানুষের জন্য খুবই সহায়ক। অনেকটা বলাই যায় এখান থেকে সব সময় যে কোন রকমের যানবহন সহজেই পাওয়া যায়।
বিনিয়োগের সুযোগ
কাজীহাটায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস, হাসপাতাল ও বাজার সংলগ্ন অবস্থানের কারণে ভাড়াটিয়াদের চাহিদা সবসময় বেশি। একটি ফ্ল্যাট কিনে ভাড়া দিয়ে প্রতিমাসে নিয়মিত ও স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা করা সম্ভব।এই এলাকায় রাজশাহী কলেজ, মহিলা কলেজ, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর ফলে ছাত্রছাত্রী ও পেশাজীবীদের জন্য এটি একটি আদর্শ আবাসিক এলাকা, যা বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।কাজীহাটা ধীরে ধীরে একটি “হাই-ডিমান্ড” আবাসিক এলাকায় পরিণত হচ্ছে। বর্তমানে ফ্ল্যাটের দাম তুলনামূলকভাবে সহনীয় হলেও আগামী ৫-১০ বছরে এর মূল্য বহুগুণে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, ফলে দীর্ঘমেয়াদে এটি লাভজনক একটি সম্পদে রূপ নিতে পারে।পাকা রাস্তা, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস সংযোগ, ইন্টারনেটসহ আধুনিক নাগরিক সুবিধাগুলো এখানে সহজলভ্য – যা একটি ফ্ল্যাটের বাজারমূল্য ও ভাড়ার হার উভয়ই বাড়িয়ে তোলে।
সংক্ষেপে বললে-
• এলাকাটি শহরের প্রানকেন্দ্রে অবস্থিত
• এলাকার দুই দিকে সুপ্রশস্ত ৪ লেনের রাস্তা ও সার্বক্ষনিক যাতায়াতের সুবিধা
• একেবারেই হাতের নাগালে জরুরী সেবা(হাসপাতাল/ফায়ার/পুলিশ)
• এলাকা সংলগ্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান • এলাকা সংলগ্ন একাধিক মাঠ ও পদ্মানদীর পাড়
• দুটি বড় কাচাবাজার ও শপিংমল
• এলাকায় সিসিটিভি থাকায় নিরাপওা ব্যাবস্থা যথেষ্ঠ সুন্দর। রাজশাহী কাজীহাটা শুধু বসবাসের জন্য নয়, বরং একটি নিরাপদ, সুবিধাজনক ও ভবিষ্যৎমুখী বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবেও আদর্শ। তাই যারা একটি সুন্দর, নিরাপদ এবং সুসংগঠিত পরিবেশে বসবাস করতে চান, তাঁদের জন্য কাজীহাটা হতে পারে চূড়ান্ত ঠিকানা।কাজীহাটার এমন পরিবর্তন শুধু নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি রাজশাহী শহরের অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও সামাজিক উন্নয়নের একটি চিত্র।